কটিয়াদীতে সহকারী শিক্ষক তাহমিনা রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ):
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ৬৩ নং বেথইর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকা ইয়াসমিন নিজের অপকর্ম ও দুর্নীতি আড়াল করতে এবং তদন্ত কার্যক্রমকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সহকারী শিক্ষক মোসা. তাহমিনা রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কটিয়াদী জেলা পরিষদ মার্কেটের স্বপ্নকুঞ্জ কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখত বক্তব্য পাঠ করেন ভূক্তভোগী সহকারী শিক্ষক মোছা. তাহমিনা রহমান।
লিখিত বক্তব্যে মোসা. তাহমিনা রহমান বলেন, আমি ৬৩নং বেথইর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি। ২০১৩ সালে যোগদানের পর থেকে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছি। আমি অত্র বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিসেস সাদেকা ইয়াসমিন অজ্ঞাত কারণে আমার সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করে আসছেন। প্রধান শিক্ষক কর্তৃক আমার উপর দীর্ঘদিন যাবত চলতে থাকা মানসিক নির্যাতন, দুর্ব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে আমি গত ৩০শে জুন উনার বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয় বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করি।
অভিযোগপত্রে প্রধান শিক্ষক মিসেস সাদেকা ইয়াসমিন আমার দায়িত্ব পালনে অসহযোগিতা, প্রয়োজনের সময় ছুটি না দেওয়া, আমার পরিবার সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করা, আমাকে অন্য শিক্ষকের চেয়ে বেশি সময় ক্লাস দেয়া, চাকরি ছেড়ে দিতে এবং অন্যত্র বদলি হতে চাপ দেয়া ইত্যাদি উপায়ে আমাকে মানসিক নির্যাতনের কথা তুলে ধরি। এছাড়া, প্রধান শিক্ষকের পারিবারের লোকজন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা, স্লিপ প্রণয়ন দল ও সামাজিক নিরীক্ষা কমিটিতে উনার আত্মীয় স্বজনদের মনোনয়ন ইত্যাদি স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ও উল্লেখ করি।
তাছাড়াও প্রধান শিক্ষকের ক্লাস ফাঁকি দেওয়া, টিফিনের সময় নিয়ম করে বাড়িতে যাওয়া এবং দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর বিদ্যালয়ে ফেরা, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া, শ্রেনীকক্ষে চুরি গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া, নিয়মিত মা সমাবেশ ও অভিভাবক সমাবেশ না করা, বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ পারিবারিক ভাবে ব্যবহার করা ইত্যাদি অনিয়ম তুলে ধরা হয়।
প্রধান শিক্ষক কর্তৃক বিগত অর্থ-বছরগুলোতে বিদ্যালয় পরিচালনা ও উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ, কাজ সম্পন্ন না করেই স্লিপ ও ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করা ইত্যাদি বিষয়েও অভিযোগে আনা হয়।
অভিযোগ দাখিলের বেশ কিছুদিন পর তদন্ত নোটিশ আসলে গত ২৩ জুলাই তদন্তের দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক পূর্বেই টের পেয়ে যান এবং অভিযোগকে দুর্বল করার জন্য তিনি কৌশলে ৩ বছর ধরে পারিবারিকভাবে ব্যবহার করতে থাকা ল্যাপটপ স্কুলে নিয়ে আসেন এবং তড়িঘড়ি করে কিছু কাজ করেন।
গত ২৩ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩ টায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয় তদন্ত কাজে বিদ্যালয়ে আসেন। তদন্তকালে আমরা আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করি। প্রধান শিক্ষকের কাছে বিগত ৫ অর্থবছরে কত টাকা ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েও জানতে পারিনি। তদন্ত কর্মকর্তার নিকট বিগত সময়ে প্রাপ্ত বাজেটের বিপরীতে কি কাজ ও ক্রয় করা হয়েছে তার বাস্তব চিত্র ও মজুদ যাচাইয়ের অনুরোধ জানাই। তদন্ত চলাকালে এলাকাবাসী ও অভিভাবকগণ তদন্ত কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা সম্পর্কে জানান। তারা দিন দিন বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান নিম্নগামী হওয়া, অফিস সময়কালে প্রধান শিক্ষকের স্কুল ত্যাগ করা ও দীর্ঘক্ষণ বাইরে অবস্থান করা, বিধি মোতাবেক বিদ্যালয় পরিচালনা না করা এবং প্রাপ্ত বাজেট সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করা ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেন এবং স্যারকে বিষয়গুলো ভালোভাবে খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করেন।
তদন্ত চলাকালে একে একে প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরায় তিনি আমার উপর প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হন এবং আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে গত ২৪ জুলাই তিনি ও সহযোগীরা নিজেদের আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীদের উসকানি দিয়ে ও পাশ্ববর্তী হাই স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের মাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করিয়েছেন এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করিয়েছেন।
এবিষয়ে গত ২৬ জুলাই শনিবার সমকাল পত্রিকার ৭ পৃষ্ঠায় “বাবা বিএনপি নেতা, বিদ্যালয়ে দাপট শিক্ষিকার” শিরোনামে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আমি ইতিমধ্যে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করেছি এবং আমার প্রতিবাদ লিপি ২৯ জুলাই মানবজমিন পত্রিকার ১৬ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, তদন্তের দিন আমার বাবা দলবল নিয়ে বিদ্যালয়ে হাজির হন এবং প্রধান শিক্ষককে অন্যত্র বদলী করতে চাপ দিতে থাকেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্যারের বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়া আমার বাবা ও স্বামী দাপট দেখাই বলে অভিযোগ করা হয়েছে, এগুলো ভিত্তিহীন। বরং প্রধান শিক্ষকই দীর্ঘদিন যাবৎ পারিবারিক ও রাজনৈতিক দাপট দেখিয়ে আসছেন। তিনি নিজেকে সবসময় আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবে জাহির করতেন। উনার ভাসুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন এবং ভাসুরের ছেলে মুমুরদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি।
সংবাদে আমার স্বামীকে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বদলি করা হয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। আমার স্বামী ২০২৩ সালের মে মাসের ৩১ তারিখ বদলির জন্য স্বেচ্ছায় আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর বদলির আদেশ জারি করা হয় এবং ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেন। কটিয়াদী উপজেলায় চাকরি কালে কোনো দিন সে আমার অফিসে যায়নি এবং কোনো রাজনীতিতে যুক্ত ছিল না। আমি সাইবার বুলিংয়ের শিকার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমাকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে উত্যাক্ত করা হচ্ছে, অপমান করা হচ্ছে ও হয়রানি করা হচ্ছে। আমার অনুমতি ছাড়া ফেসবুক থেকে আমার ছবি ব্যবহার করেছে। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই। না হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০২৩ অনুযায়ী আইনের আশ্রয় নেব।
প্রধান শিক্ষক নিজের দুর্নীতি ও অপকর্ম আড়াল করতে ও তদন্ত কার্যক্রমকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সমকালসহ স্থানীয় পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রচার করিয়েছেন। আমি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি। পাশাপাশি সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আমাকে মানসিক নির্যাতন থেকে মুক্ত করতে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উর্ধ্বমুখী করার ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মোছা. তাহমিনা রহমানের বোন উম্মে আইমন, ভাগনী সাইরিন, শ্বাশুড়ি ফাতেমা আক্তার, বেথইর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক তানজিনা, ফাতেমা আক্তার, শিউলী আক্তার, সোমা আক্তার, ডলি বেগম সহ কিশোরগঞ্জ জেলা ও পার্শ্ববর্তী কুলিয়ারচর উপজেলাসহ কটিয়াদী উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































